সংগ্রাম থেকে সেবার রাজনীতি:
পাবনায় তরুণ নেতা হিমেল রানা’র বিকল্প রাজনৈতিক ভাবনা।
একান্ত সাক্ষাৎকারঃ
বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি বড় সংকট হলো আস্থার ঘাটতি- বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম, নেতৃত্বের ধরণ এবং জনসম্পৃক্ততার প্রশ্নে যখন বারবার বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, তখন মাঠপর্যায়ে কিছু তরুণ নেতা নিজেদের কর্মকাণ্ড ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ভিন্ন এক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পাবনা জেলা সেই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা, যেখানে জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলন যেমন স্পষ্ট, তেমনি স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাবও দৃশ্যমান। এই বাস্তবতায় ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা একটি আলোচিত নাম- যিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে আজ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করেছেন, একই সঙ্গে সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বিকল্প রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, জেল-জুলুম ও মামলা মোকাবিলা, এবং সংগঠনের ভেতরে ক্রমাগত দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা, এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়কে যেমন গড়ে তুলেছে, তেমনি তাঁর নেতৃত্বের ধরনকেও প্রভাবিত করেছে। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—রাজনীতির পাশাপাশি সমাজভিত্তিক উদ্যোগকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।
“পিপীলিকা” নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তরুণদের জন্য “ফিটনেস ক্লাব”, এবং শিগগিরই চালু হতে যাওয়া “বৃদ্ধ বন্ধু” উদ্যোগ- এসব কার্যক্রম কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং একটি সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে শহরের চাপ কমাতে পরিকল্পিত উপশহর গড়ার ধারণা তাঁর নগর-ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
এই বহুমাত্রিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক দর্শন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপচারিতার অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন : আপনার রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা কীভাবে? ছাত্রজীবনে কোন অভিজ্ঞতা আপনাকে রাজনীতির পথে নিয়ে এসেছিল?
হিমেল রানা : ছাত্রজীবন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার একটা প্রবণতা ছিল। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের অধিকার বঞ্চনার বিষয়গুলো কাছ থেকে দেখেছি। তখনই মনে হয়েছে, বাইরে থেকে সমালোচনা করার চেয়ে ভেতরে থেকে কাজ করা বেশি জরুরি। সেই জায়গা থেকেই ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়া।
প্রশ্ন : দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও মামলা মোকাবিলা করেছেন। সেই কঠিন সময়গুলো আপনাকে একজন মানুষ ও নেতা হিসেবে কীভাবে বদলে দিয়েছে?
হিমেল রানা : এই সময়গুলো আমাকে ধৈর্যশীল করেছে। আগে হয়তো আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতাম, এখন বাস্তবতা বুঝে এগোতে শিখেছি। কষ্টের অভিজ্ঞতা মানুষকে ভেঙেও দেয়, আবার গড়েও তোলে। আমি চেষ্টা করেছি এটাকে শক্তিতে রূপ দিতে।
প্রশ্ন : সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদল থেকে জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসা- এই যাত্রায় কোন ঘটনাগুলো আপনার কাছে সবচেয়ে শিক্ষণীয়?
হিমেল রানা : নেতৃত্ব মানে শুধু সামনে থাকা না, বরং সবার কথা শোনা, এটা আমি এই যাত্রায় শিখেছি। অনেক সময় ছোট কর্মীর কথাতেই বড় সমাধান পাওয়া যায়, এটা বুঝেছি মাঠের রাজনীতি করতে গিয়ে।
প্রশ্ন : অনেক তরুণ রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতার পথ হিসেবে দেখে। আপনার কাছে রাজনীতির প্রকৃত অর্থ কী?
হিমেল রানা : আমার কাছে রাজনীতি মানে দায়িত্ব। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যার সমাধান করা। ক্ষমতা যদি আসে, সেটা এই কাজগুলো আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ মাত্র।
প্রশ্ন : পাবনা জেলার তরুণদের নিয়ে কাজ করার সময় আপনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট বা সম্ভাবনা কোথায় দেখেছেন?
হিমেল রানা : সবচেয়ে বড় সংকট হলো সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব। কিন্তু সম্ভাবনাও অসীম। একটু গাইডলাইন, একটু সুযোগ পেলে এখানকার তরুণরা অনেক ভালো কিছু করতে পারে।
প্রশ্ন : “পিপীলিকা” নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ার পেছনে আপনার ভাবনা কী ছিল? এর নামকরণের পেছনে কোনো বিশেষ দর্শন আছে কি?
হিমেল রানা : শুরুটা হয়েছিল শিশু-কিশোরদের নিয়ে একটি ফুটবল ক্লাব গড়ে তোলার মাধ্যমে। কিন্তু মাঠ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা খেলাধুলা থেকে সরে যেতে থাকে। তখনই তাদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত রাখতে বৃক্ষরোপণের চিন্তা আসে। ধীরে ধীরে “ফুলের শহর পাবনা” এই ভাবনা থেকে “পিপীলিকা” গড়ে ওঠে। পিপীলিকা নামটি এসেছে এই বিশ্বাস থেকে, ক্ষুদ্র প্রাণী হলেও সম্মিলিত শক্তিতে তারা বড় পরিবর্তন আনতে পারে; ঠিক তেমনি ছোট ছোট উদ্যোগেই একটি শহর বদলে যেতে পারে।
প্রশ্ন : সামাজিক কাজ করতে গিয়ে এমন কোনো অভিজ্ঞতা কি হয়েছে যা আপনাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বা নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে?
হিমেল রানা : শীতবস্ত্র বিতরণের সময় দেখেছি অনেক মানুষ আছেন যারা সাহায্য চাইতেও লজ্জা পান। তখন বুঝেছি, শুধু সাহায্য করলেই হবে না, সম্মানটাও রক্ষা করতে হয়।
প্রশ্ন : বৃক্ষরোপণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা- এতগুলো সামাজিক উদ্যোগ একসাথে পরিচালনা করতে কী ধরনের সংগঠন ও পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়?
হিমেল রানা : সবচেয়ে জরুরি হলো টিমওয়ার্ক। একা কিছুই সম্ভব না। সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত মনিটরিং থাকলে অনেক বড় কাজও সহজ হয়ে যায়।
প্রশ্ন : “ফিটনেস ক্লাব” গড়ে তুলে তরুণদের মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব আপনি কীভাবে দেখছেন?
হিমেল রানা : আমরা ইতিমধ্যেই অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছি। যারা আগে আড্ডায় সময় নষ্ট করতো, তারা এখন নিয়মিত শরীরচর্চা করছে। তাদের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন এসেছে।
প্রশ্ন : রাজনীতির বাইরে সাহিত্য, গান, আবৃত্তি ও সংস্কৃতির প্রতি আপনার আগ্রহের কথা শোনা যায়। সংস্কৃতি কি একজন রাজনৈতিক নেতার মানসিক গঠনে কোনো ভূমিকা রাখে?
হিমেল রানা : অবশ্যই রাখে। সংস্কৃতি মানুষকে সংবেদনশীল করে, সহনশীল করে। একজন নেতার জন্য এই গুণগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আপনি কীভাবে দেখেন? এখানে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার জন্য কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
হিমেল রানা : পাবনার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। কিন্তু নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি যুক্ত করতে হলে নিয়মিত আয়োজন, প্রশিক্ষণ এবং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে।
প্রশ্ন : “বৃদ্ধ বন্ধু” নামে যে নতুন উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছেন, সেটি কীভাবে কাজ করবে এবং এর পেছনের মানবিক ভাবনা কী?
হিমেল রানা : এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো একাকী ও অসহায় বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ানো। তারা যেন একটি ফোন কলেই প্রয়োজনীয় সাহায্য পান- এই ধারণা থেকেই এটি শুরু।
প্রশ্ন : সমাজে আমরা প্রায়ই দেখি বৃদ্ধ মানুষগুলো একাকীত্ব ও অবহেলার শিকার হন। এই সমস্যাকে আপনি সামাজিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?
হিমেল রানা : এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। আমরা উন্নয়ন নিয়ে কথা বলি, কিন্তু আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের অবস্থা যদি ভালো না হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন অসম্পূর্ণ।
প্রশ্ন : দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে আপনি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির কোন জায়গাটাকে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করেন?
হিমেল রানা : সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা যেন সংঘাতে না গড়ায়।
প্রশ্ন : একজন সংগঠক হিসেবে কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
হিমেল রানা : সম্পর্কটা হওয়া উচিত আস্থা ভরসা ও বিশ্বাসের। কর্মীরা যেন মনে করে, তাদের নেতা তাদের পাশে আছেন- এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রশ্ন : পাবনা পৌরসভার নাগরিক সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনগুলোকে আপনি সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন?
হিমেল রানা : ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানজট এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এই তিনটি সমস্যা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের দাবি রাখে।
প্রশ্ন : যদি ভবিষ্যতে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান, তাহলে প্রথম তিনটি কী কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন?
হিমেল রানা : প্রথমত নাগরিক সেবা সহজ করা, দ্বিতীয়ত অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং তৃতীয়ত একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা।
প্রশ্ন : স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নাগরিক অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
হিমেল রানা : নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ওপেন আলোচনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম- এসব খুব কাজে আসে।
প্রশ্ন : পৌরসভার বাইরে উত্তর অংশে উপশহর গড়ার উদ্যোগে আপনার সম্পৃক্ততা মূলত কী লক্ষ্য পূরণ করতে চাচ্ছে? এই উদ্যোগ নাগরিক জীবনের চাপ কমাতে কীভাবে কার্যকর হবে?
হিমেল রানা : মূল লক্ষ্য হলো শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো। পরিকল্পিত উপশহর হলে মানুষ বিকল্প আবাসন পাবে, যানজট কমবে, এবং শহরের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
প্রশ্ন : এই উপশহর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বা সামাজিক কোন বাধাগুলো আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, এবং সেগুলো অতিক্রম করার জন্য আপনার কৌশল কী হবে?
হিমেল রানা : সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমন্বয়। প্রশাসন, স্থানীয় মানুষ এবং বিনিয়োগকারীদের একসাথে কাজ করতে হবে। স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমেই এগুলো অতিক্রম করা সম্ভব।
প্রশ্ন : তরুণ প্রজন্মের অনেকেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের রাজনীতির প্রতি আস্থা ফেরাতে কী করা দরকার?
হিমেল রানা : তাদের কাছে রাজনীতির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।
প্রশ্ন : ব্যক্তিগতভাবে আপনার জীবনের মূল অনুপ্রেরণা কী? কঠিন সময়েও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি কোথা থেকে পান?
হিমেল রানা : আমি সবসময় নিজেকে বলি- “আমি ভালো আছি।” জীবনে যত জটিলতাই আসুক, ধৈর্য ও ঠাণ্ডা মাথায় সেগুলো মোকাবিলা করার চেষ্টা করি। এই ইতিবাচক মানসিকতাই আমার অনুপ্রেরণা এবং কঠিন সময়েও এগিয়ে যাওয়ার শক্তির উৎস।
পাবনার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে- এখানে নেতৃত্বের প্রশ্নটি কেবল দলীয় অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা’র কার্যক্রম একটি ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্যে যেমন একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে, তেমনি সংগঠন পরিচালনা ও সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সমস্যাগুলোকে সরাসরি মোকাবিলা করা এবং নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে চিন্তা তিনি তুলে ধরেছেন, তা বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক চর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে এটিও বিবেচ্য যে, এই ধরনের ভাবনা ও পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করে তার ধারাবাহিকতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং জনসম্পৃক্ততার ওপর। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যকার ব্যবধানই সাধারণত জনআস্থার জায়গাটিকে প্রভাবিত করে।
সেই জায়গা থেকে হিমেল রানা’র সামনে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও। তিনি যে রাজনৈতিক ও সামাজিক মডেল উপস্থাপন করতে চাইছেন, তা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবে রূপ পায়- সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট- তারা এমন নেতৃত্ব চায়, যারা শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় না, বরং সেই প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে সক্ষম হয়। হিমেল রানা’র পথচলা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেটিই সময়ই নির্ধারণ করবে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন
মির্জা রানা
সাংস্কৃতিক কর্মী,
পাবনা।
