রোববার ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কোতোয়ালি জোনাল দল রাজধানীর মিটফোর্ড, ঢাকার সাভার এবং কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে মো. কবির হোসেন (৪৪), আইনুল ইসলাম (৩২), মো. মোরশেদ আলম শাওন (৩৫), আল আমিন চঞ্চল (৩৫), মো. সাগর (১৯), মো. আবির (২১), মো. রুবেল (২৩), মো. নাজিম উদ্দিন (৪২), মো. তৌহিদ (২৮) ও মো. পারভেজ (৩২)-কে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্যানটোনিক্স-২০ এমজি মোড়কে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৬ পিস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সেকলো-২০ এমজি মোড়কে চার লাখ ১০ হাজার ৪০০ পিস, দি একমি ল্যাবরেটরিজ কোম্পানির মোনাস-১০ এমজি মোড়কে ৫৮ হাজার ৫০০ পিসসহ দেশের আটটি কোম্পানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রনসন কোম্পানির মোড়কে প্রায় ২০ লাখ পিস নকল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।”
তিনি বলেন, “ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ যখন থেকে ট্যাবলেট ফরমেটে বাজারে আসলো, তখন থেকেই প্রতারণার একটি দ্বার উন্মোচন হয়। নামি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা চাহিদা বিবেচনায়, গ্যাসের ওষুধ, ব্যথার ওষুধ ও বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তারা নকল করে।“এসব ওষুধ তৈরি হয় কুমিল্লার কাপ্তান বাজারের হিমালয় ল্যাবরেটরিজ নামের একটি ইউনানী ও হারবাল ওষুধ কোম্পানিতে। এরা তাদের কারখানাগুলোতে নিজস্ব ওষুধ বাদ দিয়ে প্রচলিত ওষুধ নকল করে বাজারে ছাড়তে থাকে। দেশের নামকরা আটটি ও আমেরিকার একটি কোম্পানির ওষুধ তারা আটা, ময়দা ও অন্যান্য রাসায়নিক মিশিয়ে শুধু মোড়ক লাগিয়ে বাজারে ছাড়ত।”
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেন, “চক্রটির হোতা মো. কবির হোসেন ও মোরশেদ আলম শাওন নকল ওষুধ তৈরি করতেন এবং গ্রেপ্তার বাকিরা বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সেগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাজারজাত করতেন।”
২০২১ সালের অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত ডিবি পুলিশ ২০টি অভিযান চালিয়ে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৪টি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার।