পাবনায় ধর্ষকের বিচার চাওয়ায় হত্যার হুমকি, বিএনপি নেতা আইয়ুব সরদারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় ৯ বছরের শিশু হাফসা ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ায় এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেত্রীকে হত্যার হুমকির ঘটনায় বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আইয়ুব সরদারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। সুমাইয়া হাসান পুষ্পীতা নিজে পাবনা সদর থানায় গত বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাতে জিডি করেন। সুমাইয়া হাসান পুষ্পীতা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পাবনার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি এনসিপির ছাত্র সংগঠন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুমাইয়া হাসান পুষ্পীতা বলেন, গত ১৭ নভেম্বর হাফসা ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকা রাখি। আমরা মেরিল বাইপাস সড়ক অবরোধ করার সময় আমাদের কাছে খবর আসে ভিকটিমের বাড়িতে নাকি ধর্ষক পক্ষ হামলা করছে। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে কয়েকজন শিক্ষার্থী হাফসার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এসময় বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আইয়ুব সরদার আমাদের বাধা দেয় এবং তার বাহিনী নিয়ে আমাদেরকে ঘেরাও করে ফেলে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তিনি এসময় এঘটনায় তার নিজের ভাগী শরিক গ্রেফতার হওয়ায় তিনি ঘটনাটি ধাপাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন এবং ঘটনাটি প্রচার ও জানাজানি করতে নিষেধ করেন।
তিনি আরও বলেন, এগুলো এত মানুষকে জানানোর দরকার নেই। পরবর্তীতে তিনি পাবনা হামিদ রোডের শহীদ চত্বরে এসে হাফসার হত্যার বিচারের কর্মসূচিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। আইয়ুব সরদার বলেন, তাদের এলাকার বিষয় সে নিজে সমাধান করবে, এখানে প্রশাসন বা বাইরের এলাকার কারোর কোন প্রয়োজন নেই যেখানে ধর্ষক তার নিজের পরিবারের। শিক্ষার্থীরা তার কথা না শুনলে তিনি এসময় শিক্ষার্থীদের মেরে কেটে ফেলার হুমকি দেয়। (উল্লেখ্যে এঘটনায় গ্রেফতারকৃত পান্না সরদার (২৮) আইয়ুব সরদারের বড় ভাই খালেক সরদারের ছেলে।)
তাই আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সদর থানার একটি জিডি করেছি।
উল্লেখ্য শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে পাবনা পৌর সদরের উত্তর শালগাড়িয়া সরদারপাড়া এলাকার ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থী হাফসার লাশ তার নানা বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হয়, দুর্বৃত্তরা হাফসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং তার লাশ পরে বাগানে ফেলে রাখে। নিহত হাফসা উত্তর শালগাড়িয়া সরদারপাড়ার নানা মল্লিক সরদারের বাড়িতে থাকত এবং স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশ রোববার রাতে রমজান (২২) ও সাব্বির (২৩) নামের দুই যুবককে আটক করে।
নিহত হাফসার মা রিতু খাতুন বাদী হয়ে সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাবনা পৌর সদরের উত্তর শালগাড়িয়া সরদারপাড়া মহল্লার টিপু সরদারের ছেলে সাব্বির সরদার (২৬), ছবেদ আলীর ছেলে রমজান আলী (৩০) ও খালেক সরদারের ছেলে পান্না সরদার (২৮)। তাঁদের মধ্যে সাব্বির ও রমজানকে গত রোববার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আর পান্নাকে আজ বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পাবনা প্রতিনিধি
